নতুন

[getBreaking results="4" label="recent"]

অন্তরালের আমিঃ জুয়েল আইচ


মঞ্চে একজন জাদুশিল্পীকে দেখলে আমাদের চোখ আটকে থাকে তাঁর হাতের নিপুণতা, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার ভঙ্গি আর মুহূর্তের বিস্ময়ে। কিন্তু সেই জাদুর পেছনে যে দীর্ঘ প্রস্তুতি, অধ্যবসায়, একাকিত্ব, ব্যর্থতা, স্বপ্ন ও সংগ্রাম থাকে, দর্শকের চোখ সাধারণত সেখানে পৌঁছায় না। জুয়েল আইচের ‘অন্তরালের আমি’ সেই আড়ালটুকু সরিয়ে একজন শিল্পীর জীবনের ভেতরের মানুষটির সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেয়।

বইটি মূলত একটি যাদুশিল্পীর জীবনকাহিনি হলেও এর পরিসর শুধু মঞ্চের জাদুতে সীমাবদ্ধ নয়। জুয়েল আইচ তাঁর শৈশব, বেড়ে ওঠা, শিল্পী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা, নানা অভিজ্ঞতা এবং নিজের শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করার পথের কথা বলেছেন। ফলে বইটি পড়তে পড়তে বোঝা যায়—একজন শিল্পীর পরিচয় কোনো একদিনে তৈরি হয় না; তার পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, কৌতূহল এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল আস্থা।

‘অন্তরালের আমি’-র সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো 'মঞ্চের জাদু এবং জীবনের বাস্তবতার পাশাপাশি অবস্থান'। দর্শক যে মুহূর্তটিকে অলৌকিক বলে মনে করেন, শিল্পীর কাছে সেটি নিখুঁত প্রস্তুতি ও কৌশলের ফল। এই পার্থক্যটি জুয়েল আইচের জীবনকাহিনিকে একটি বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। বইটি মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের দৃশ্যমান মুহূর্তের পেছনে কত অদৃশ্য শ্রম জমা থাকে।

লেখকের ব্যক্তিজীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সমকালীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও কিছু ছবি পাওয়া যায়। একজন শিল্পীকে নিজের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে যে প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তারও আভাস রয়েছে। একই সঙ্গে আছে শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নতুন কিছু করার আকাঙ্ক্ষা।

বইটির ভাষা আত্মজীবনীমূলক ও সরল; লেখক নিজের অভিজ্ঞতাকে পাঠকের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। ফলে এটি কেবল জাদুপ্রেমীদের জন্য নয়, যে কোনো স্বপ্নবান মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার বই হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ‘অন্তরালের আমি’ আসলে জাদুর রহস্য উন্মোচনের বই নয়; এটি 'জাদুশিল্পীর অন্তর্গত মানুষটিকে আবিষ্কারের বই'। মঞ্চের আলো নিভে গেলে যে মানুষটি থেকে যান—তাঁর স্বপ্ন, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও আত্মঅন্বেষণের গল্পই এই বইয়ের প্রকৃত আকর্ষণ।

0/Post a Comment/Comments

প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।

নবীনতর পূর্বতন