আমার জীবন
মূল: মার্ক শাগাল
ভাষান্তর: অদিতি ফাল্গুনী
----------------------------
বিশ শতকের অন্যতম স্বতন্ত্র চিত্রশিল্পী মার্ক শাগালের ‘আমার জীবন’ নিছক আত্মজীবনী নয়; এটি একজন শিল্পীর শৈশব, প্রেম, পরিবার, দেশ, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং শিল্পী হয়ে ওঠার অন্তরঙ্গ ইতিহাস। অদিতি ফাল্গুনীর ভাষান্তরে বাংলায় প্রকাশিত বইটি প্রথম প্রকাশ করে ঐতিহ্য, ২০০১ সালে; পরবর্তী সংস্করণেও বইটির পাঠকপ্রিয়তা বজায় রয়েছে।
১৮৮৯ সালে রাশিয়ার ভিটেবস্কের একটি ইহুদি পরিবারে শাগালের জন্ম। দরিদ্র ও ঘিঞ্জি ইহুদি মহল্লার শৈশব তাঁর শিল্পীসত্তার ভিত তৈরি করেছিল। পরিবারের ধর্মীয় আচার, লোকজ জীবন, ইহুদি সংস্কৃতি, শহরের মানুষ, সার্কাস, সংগীত— সবকিছু পরবর্তীকালে তাঁর ছবির আশ্চর্য জগতে ফিরে এসেছে। শাগালের আত্মজীবনী পড়লে বোঝা যায়, তাঁর চিত্রকলার কল্পনাময় জগৎ আসলে শৈশবস্মৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
১৯০৬ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গে শিল্পশিক্ষা গ্রহণের পর শাগাল প্যারিসে যান। সেখানে তিনি ইউরোপীয় আধুনিক শিল্পের নতুন প্রবণতার সঙ্গে পরিচিত হন এবং শিল্পী হিসেবে নিজের স্বাতন্ত্র্য খুঁজে পান। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং কৈশোরের প্রেমিকা বেলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে বলশেভিক বিপ্লবের সময় ভিটেবস্কে চারুকলা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পান।
বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো জীবন ও শিল্পের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। শাগালের কাছে পরিবার, প্রেম, স্মৃতি ও মাতৃভূমি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়— এসবই তাঁর শিল্পের উপাদান। তাঁর আত্মজীবনীতে তাই বাস্তব ঘটনার পাশাপাশি স্মৃতি ও কল্পনা মিশে যায়; গদ্য কখনো কখনো তাঁর ছবির মতোই স্বপ্নময় হয়ে ওঠে। তাঁর প্রাথমিক জীবনের মানুষ ও স্থানগুলো পরবর্তীকালে তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মের নানা প্রতীকের উৎস হয়ে উঠেছিল।
আত্মজীবনীটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্ন। বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় নতুন শিল্পভাবনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় শিল্প-দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত তাঁকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়ার দিকে ঠেলে দেয়। ফলে ‘আমার জীবন’ একই সঙ্গে একজন শিল্পীর আত্মঅন্বেষণ এবং রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের দলিল।
অদিতি ফাল্গুনীর অনুবাদে এই ব্যক্তিগত ও শিল্পময় জগতটি বাংলা পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছে যায়। ‘আমার জীবন’ তাই শুধু মার্ক শাগালের জীবনকথা নয়— একজন শিল্পী কীভাবে নিজের স্মৃতি, ভালোবাসা ও যন্ত্রণাকে শিল্পে রূপান্তরিত করেন, তার এক অসাধারণ আত্মস্বীকারোক্তি।
১৮৮৯ সালে রাশিয়ার ভিটেবস্কের একটি ইহুদি পরিবারে শাগালের জন্ম। দরিদ্র ও ঘিঞ্জি ইহুদি মহল্লার শৈশব তাঁর শিল্পীসত্তার ভিত তৈরি করেছিল। পরিবারের ধর্মীয় আচার, লোকজ জীবন, ইহুদি সংস্কৃতি, শহরের মানুষ, সার্কাস, সংগীত— সবকিছু পরবর্তীকালে তাঁর ছবির আশ্চর্য জগতে ফিরে এসেছে। শাগালের আত্মজীবনী পড়লে বোঝা যায়, তাঁর চিত্রকলার কল্পনাময় জগৎ আসলে শৈশবস্মৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
১৯০৬ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গে শিল্পশিক্ষা গ্রহণের পর শাগাল প্যারিসে যান। সেখানে তিনি ইউরোপীয় আধুনিক শিল্পের নতুন প্রবণতার সঙ্গে পরিচিত হন এবং শিল্পী হিসেবে নিজের স্বাতন্ত্র্য খুঁজে পান। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং কৈশোরের প্রেমিকা বেলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে বলশেভিক বিপ্লবের সময় ভিটেবস্কে চারুকলা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পান।
বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো জীবন ও শিল্পের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। শাগালের কাছে পরিবার, প্রেম, স্মৃতি ও মাতৃভূমি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়— এসবই তাঁর শিল্পের উপাদান। তাঁর আত্মজীবনীতে তাই বাস্তব ঘটনার পাশাপাশি স্মৃতি ও কল্পনা মিশে যায়; গদ্য কখনো কখনো তাঁর ছবির মতোই স্বপ্নময় হয়ে ওঠে। তাঁর প্রাথমিক জীবনের মানুষ ও স্থানগুলো পরবর্তীকালে তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মের নানা প্রতীকের উৎস হয়ে উঠেছিল।
আত্মজীবনীটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্ন। বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় নতুন শিল্পভাবনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় শিল্প-দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত তাঁকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়ার দিকে ঠেলে দেয়। ফলে ‘আমার জীবন’ একই সঙ্গে একজন শিল্পীর আত্মঅন্বেষণ এবং রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের দলিল।
অদিতি ফাল্গুনীর অনুবাদে এই ব্যক্তিগত ও শিল্পময় জগতটি বাংলা পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছে যায়। ‘আমার জীবন’ তাই শুধু মার্ক শাগালের জীবনকথা নয়— একজন শিল্পী কীভাবে নিজের স্মৃতি, ভালোবাসা ও যন্ত্রণাকে শিল্পে রূপান্তরিত করেন, তার এক অসাধারণ আত্মস্বীকারোক্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।