গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক তথা কথাসাহিত্যের রস অনুধাবনে আগ্রহী পাঠকদের
জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই “অলঙ্কার অন্বেষা”; লিখেছেন বিখ্যাত শিক্ষক ও
আবৃত্তিশিল্পী ‘নরেন বিশ্বাস’। তার এই বই ‘অলঙ্কার অন্বেষা’ বাংলা ভাষায় অলঙ্কারশাস্ত্র ও কাব্যসৌন্দর্য বিচারের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। প্রথম প্রকাশের সময় থেকেই বইটির লক্ষ্য ছিল জটিল অলঙ্কারতত্ত্বকে সাধারণ কাব্যপাঠকের কাছে অপেক্ষাকৃত সহজ ও বোধগম্য করে তোলা। গ্রন্থটি ২০০০ সালে অনন্যা থেকে প্রকাশিত এবং প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার; বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের তালিকাতেও এটি কাব্য-সমালোচনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।
বইটির সূচির দিকে তাকালেই এর পরিকল্পনার ব্যাপ্তি বোঝা যায়। প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে ‘অলঙ্কার: উৎস ও ক্রমবিকাশ’—অর্থাৎ লেখক প্রথমেই পাঠককে অলঙ্কারচর্চার ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতের সঙ্গে পরিচিত করেন। পরবর্তী অংশে অলঙ্কারের ধারণা ও শব্দালঙ্কার, বিশেষত যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি নিয়ে আলোচনা এসেছে। এরপর অর্থালঙ্কারকে সাদৃশ্যমূলক, বিরোধমূলক, শৃঙ্খলামূলক, ন্যায়মূলক ও গূঢ়ার্থপ্রতীমূলক—এই বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
গ্রন্থটির বিশেষত্ব শুধু শ্রেণিবিন্যাসে নয়, উদাহরণ নির্বাচনের মধ্যেও। নরেন বিশ্বাস প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য থেকে উদাহরণ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ও সমকালীন কবিদের রচনাকেও আলোচনায় এনেছেন। ফলে অলঙ্কার এখানে কেবল প্রাচীন শাস্ত্রের বিষয় হয়ে থাকেনি; আধুনিক কবিতার ভাষা ও সৌন্দর্য অনুধাবনেরও একটি কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি সংস্কৃত উদ্ধৃতির বাংলা অর্থ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে সংস্কৃত না-জানা পাঠকও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
তবে বইটির আসল আকর্ষণ এর শিক্ষকসুলভ অথচ সহৃদয় দৃষ্টিভঙ্গি। লেখক নিজেই একে চূড়ান্ত অলঙ্কারশাস্ত্র হিসেবে দাবি করেননি; বরং একজন সংবেদনশীল কাব্যপাঠকের অনুসন্ধান হিসেবে দেখেছেন। এই বিনয়ই বইটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে। অলঙ্কারকে মুখস্থ করার বিষয় না বানিয়ে কবিতার সৌন্দর্য কীভাবে তৈরি হয়, তার ভিতরের কারুকাজ কীভাবে শনাক্ত করা যায়—‘অলঙ্কার অন্বেষা’ মূলত সেই পাঠপ্রক্রিয়াই শেখায়।
তবে এর সীমাবদ্ধতাও আছে। অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয় স্বভাবতই তাত্ত্বিক ও জটিল; ফলে একেবারে নতুন পাঠকের কাছে কিছু অংশ কঠিন মনে হতে পারে। তবু নরেন বিশ্বাসের সহজ ব্যাখ্যা, বিপুল উদাহরণ এবং ঐতিহ্য ও সমকালকে পাশাপাশি দেখার প্রবণতা সেই দুরূহতাকে অনেকটাই কমিয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘অলঙ্কার অন্বেষা’ শুধু অলঙ্কারের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগের বই নয়; এটি কবিতাকে আরও গভীরভাবে পড়ার একটি প্রশিক্ষণ। বাংলা কবিতার ভাষা, রূপকল্প ও সৌন্দর্যের অন্তর্নিহিত নির্মাণ বুঝতে আগ্রহী পাঠকের জন্য বইটি বিশেষ মূল্যবান। বাংলা কাব্যতত্ত্বের পাঠে এর গুরুত্ব আজও যথেষ্ট—এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পাঠ্যতালিকাতেও গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বইটির সূচির দিকে তাকালেই এর পরিকল্পনার ব্যাপ্তি বোঝা যায়। প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে ‘অলঙ্কার: উৎস ও ক্রমবিকাশ’—অর্থাৎ লেখক প্রথমেই পাঠককে অলঙ্কারচর্চার ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতের সঙ্গে পরিচিত করেন। পরবর্তী অংশে অলঙ্কারের ধারণা ও শব্দালঙ্কার, বিশেষত যমক, শ্লেষ ও বক্রোক্তি নিয়ে আলোচনা এসেছে। এরপর অর্থালঙ্কারকে সাদৃশ্যমূলক, বিরোধমূলক, শৃঙ্খলামূলক, ন্যায়মূলক ও গূঢ়ার্থপ্রতীমূলক—এই বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
গ্রন্থটির বিশেষত্ব শুধু শ্রেণিবিন্যাসে নয়, উদাহরণ নির্বাচনের মধ্যেও। নরেন বিশ্বাস প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য থেকে উদাহরণ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ও সমকালীন কবিদের রচনাকেও আলোচনায় এনেছেন। ফলে অলঙ্কার এখানে কেবল প্রাচীন শাস্ত্রের বিষয় হয়ে থাকেনি; আধুনিক কবিতার ভাষা ও সৌন্দর্য অনুধাবনেরও একটি কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি সংস্কৃত উদ্ধৃতির বাংলা অর্থ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে সংস্কৃত না-জানা পাঠকও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
তবে বইটির আসল আকর্ষণ এর শিক্ষকসুলভ অথচ সহৃদয় দৃষ্টিভঙ্গি। লেখক নিজেই একে চূড়ান্ত অলঙ্কারশাস্ত্র হিসেবে দাবি করেননি; বরং একজন সংবেদনশীল কাব্যপাঠকের অনুসন্ধান হিসেবে দেখেছেন। এই বিনয়ই বইটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে। অলঙ্কারকে মুখস্থ করার বিষয় না বানিয়ে কবিতার সৌন্দর্য কীভাবে তৈরি হয়, তার ভিতরের কারুকাজ কীভাবে শনাক্ত করা যায়—‘অলঙ্কার অন্বেষা’ মূলত সেই পাঠপ্রক্রিয়াই শেখায়।
তবে এর সীমাবদ্ধতাও আছে। অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয় স্বভাবতই তাত্ত্বিক ও জটিল; ফলে একেবারে নতুন পাঠকের কাছে কিছু অংশ কঠিন মনে হতে পারে। তবু নরেন বিশ্বাসের সহজ ব্যাখ্যা, বিপুল উদাহরণ এবং ঐতিহ্য ও সমকালকে পাশাপাশি দেখার প্রবণতা সেই দুরূহতাকে অনেকটাই কমিয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘অলঙ্কার অন্বেষা’ শুধু অলঙ্কারের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগের বই নয়; এটি কবিতাকে আরও গভীরভাবে পড়ার একটি প্রশিক্ষণ। বাংলা কবিতার ভাষা, রূপকল্প ও সৌন্দর্যের অন্তর্নিহিত নির্মাণ বুঝতে আগ্রহী পাঠকের জন্য বইটি বিশেষ মূল্যবান। বাংলা কাব্যতত্ত্বের পাঠে এর গুরুত্ব আজও যথেষ্ট—এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পাঠ্যতালিকাতেও গ্রন্থটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
--------------------
অলঙ্কার অন্বেষা
নরেন বিশ্বাস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।