প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফা প্রণীত জীবন জগৎ সম্পর্কিত বহুবিদ ভাবনার বই 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'। আহমদ ছফার ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ, তার মানসিকতা ও সামাজিক ভূমিকা নিয়ে লেখা একটি তীক্ষ্ণ ও বিতর্কিত প্রবন্ধগ্রন্থ। ১৯৭২ সালে প্রথম প্রকাশিত এই বইয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশকে সামনে রেখে ছফা মূলত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের সুবিধাবাদ, আত্মপরিচয়ের সংকট এবং ক্ষমতার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন।
বইটির সূচির বিষয়গুলো লক্ষ করলে দেখা যায়, ছফার আলোচনার কেন্দ্র শুধু বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা নয়; বরং স্বাধীনতার পর একটি নতুন রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে চিন্তাশীল মানুষের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও। তাঁর মতে, যে বুদ্ধিবৃত্তি বাস্তব সমাজ, মানুষের জীবন ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নয়, তা শেষ পর্যন্ত নিষ্প্রাণ ও সুবিধাবাদী হয়ে পড়ে।
গ্রন্থটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর নির্ভীক আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। ছফা নিজেও মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী সমাজের অংশ হয়েও সেই শ্রেণির দুর্বলতাগুলোকে আক্রমণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে তিনি বইটির একটি পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন এবং পঁচিশ বছর পরও এর বক্তব্য কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নতুন করে বিবেচনা করেন।
আজও বইটি পাঠের মূল্য এখানেই—এটি আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, বুদ্ধিজীবীর কাজ কি কেবল কথা বলা, নাকি সমাজের পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো?
![]() |
| বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস- আহমদ ছফা এর প্রিন্টার্স লাইন |


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।