-------------------------
‘বই পড়া ভারী মজা’ শামসুল হকের এমন একটি বই, যার মূল উদ্দেশ্য পাঠকের মধ্যে বই পড়ার আনন্দ ও অভ্যাস তৈরি করা। বই পড়াকে নিছক পরীক্ষায় ভালো ফল করার উপায় হিসেবে না দেখে আনন্দ, জ্ঞান ও কল্পনার এক বিশাল জগতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখানোই বইটির প্রধান আকর্ষণ।
শিশু-কিশোরদের কথা মাথায় রেখে লেখা হলেও বইটির আবেদন শুধু তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বই পড়লে মানুষ নিজের চারপাশের জগতের বাইরে গিয়ে অচেনা দেশ, মানুষ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। একটি ভালো বই কখনো আনন্দ দেয়, কখনো প্রশ্ন করতে শেখায়, আবার কখনো নিজের জীবন ও সমাজকে নতুন চোখে দেখতে সাহায্য করে—এই সহজ সত্যটিই বইটির আলোচনার কেন্দ্রে।
শামসুল হক বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পাঠাভ্যাস, বই নির্বাচন এবং পাঠের আনন্দ—এই বিষয়গুলোর দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কোন বই পড়ব, কেন পড়ব, কীভাবে পড়ব এবং বই থেকে কীভাবে আনন্দ ও জ্ঞান দুটোই পাওয়া যায়—এসব বিষয়ে তাঁর আলোচনা পাঠককে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বইকে ভয় বা বাধ্যবাধকতার বিষয় না বানিয়ে আনন্দের বিষয় করে তোলার দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়।
বইটির সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো এর সহজ ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা। ভারী তত্ত্ব বা কঠিন ভাষার পরিবর্তে লেখক পাঠকের সঙ্গে যেন সরাসরি কথোপকথন করেন। ফলে বই পড়ার উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত নীতিকথার বদলে পাঠক একটি স্বাভাবিক ও আনন্দময় পাঠ-অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যায়।
আজকের সময়ে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাস্তবতায় ‘বই পড়া ভারী মজা’-র বক্তব্য আরও প্রাসঙ্গিক। বই আমাদের কেবল তথ্য দেয় না, চিন্তার স্বাধীনতা ও কল্পনার শক্তিও বাড়ায়।
সব মিলিয়ে, ‘বই পড়া ভারী মজা’ বইপ্রেম তৈরি করার একটি আনন্দময় প্রয়াস। যারা বই পড়তে শুরু করতে চায়, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হাতে বই তুলে দিতে চান—তাদের জন্য এটি উৎসাহব্যঞ্জক একটি গ্রন্থ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।