নতুন

[getBreaking results="4" label="recent"]

শান্তিনিকেতন - ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী

শান্তিনিকেতন - ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী
শান্তিনিকেতন
ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী
**********
 
শান্তিনিকেতনে শিক্ষাগ্রহণকালীন সমায়ের স্মৃতিকথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক অজানা কথা জানা যাবে। ড. আশরাফ সিদ্দিকীর ‘শান্তিনিকেতন’ মূলত তাঁর শান্তিনিকেতনে শিক্ষাগ্রহণকালীন স্মৃতির ওপর রচিত এক মূল্যবান স্মৃতিকথা। বইটির প্রকাশকাল ১৯৭৪। লেখক ১৯৪৫ সালের ৩ জুলাই শান্তিনিকেতনে এসে সেখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই সময়ের শিক্ষা, পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক জীবনই গ্রন্থটির প্রধান বিষয়।

শান্তিনিকেতনে তাঁর আসার পেছনেও রয়েছে একটি চমৎকার ঘটনা। কিশোর বয়সে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিঠি লিখেছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। রবীন্দ্রনাথ স্বহস্তে তার উত্তর দিয়েছিলেন। সেই চিঠিই কিশোর আশরাফের মনে শান্তিনিকেতনে পড়ার স্বপ্ন তৈরি করে। কয়েক বছর পর সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়।

বইটিতে শান্তিনিকেতনের গাছতলায় পাঠদান, প্রকৃতির সঙ্গে শিক্ষার নিবিড় সম্পর্ক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিকতা, উৎসব, খেলাধুলা, ক্যাফেটেরিয়া, কোপাই নদী ও আশপাশের গ্রামজীবন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবনের কিছু অজানা ও মজার ঘটনা, তাঁর ভৃত্য বনমালী, ‘পাগলা ফাইল’ এবং শান্তিনিকেতনের নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের কথাও পাওয়া যায়। লেখক শান্তিনিকেতনের কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষক ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের লেখা চিঠির কথাও তুলে ধরেছেন।

আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭–২০২০) ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, লোকগবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করার পর ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকসাহিত্যে এমএ ও পিএইচডি করেন। তাঁর সাহিত্যিক ও গবেষণামূলক জীবনের ভিত্তি নির্মাণে শান্তিনিকেতনের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সব মিলিয়ে ‘শান্তিনিকেতন’ শুধু একজন শিক্ষার্থীর স্মৃতিকথা নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ, মানবতাবাদ, প্রকৃতিনির্ভর শিক্ষা ও শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিবেশের একটি প্রত্যক্ষ দলিল। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনকে কাছ থেকে জানতে এবং তার অন্তর্গত জীবন ও সংস্কৃতির অনেক অজানা দিক আবিষ্কার করতে বইটি বিশেষভাবে পাঠযোগ্য।

0/Post a Comment/Comments

প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।

নবীনতর পূর্বতন