শূন্যের ইতিকথা
মূল: দিলীপ এম সালভি
অনুবাদ: শফিকুল ইসলাম
----------
শূন্য—একটি ছোট্ট সংখ্যা, অথচ গণিতের ইতিহাসে যার আবির্ভাব ছিল এক মহাবিপ্লবের মতো। আজ শূন্য ছাড়া আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা কম্পিউটার জগতের কথা কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু এই ‘কিছু না’-কে একটি সংখ্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গণিতের মূল কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করার ইতিহাসটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। দিলীপ এম সালভির ‘শূন্যের ইতিকথা’, শফিকুল ইসলামের অনুবাদে, সেই বিস্ময়কর ইতিহাসকেই শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে তুলে ধরেছে।
শূন্যের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি জড়িয়ে আছে ভারতীয় গণিতের সঙ্গে। প্রাচীন ভারতে শূন্যের ধারণা ও স্থানমান পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছিল। ভারতীয় গণিতবিদ আর্যভট্ট পঞ্চম শতকে তাঁর গণিতচর্চার মাধ্যমে স্থানমানভিত্তিক সংখ্যাপদ্ধতির ধারণাকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর রচনায় শূন্যের জন্য আলাদা প্রতীক ব্যবহারের সুস্পষ্ট নিদর্শন না থাকলেও শূন্যস্থান বা স্থানমানের ধারণাটি ভারতীয় গণিতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে এই ধারণাই আরও সুসংহত রূপ পায়।
সেই ধারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ব্রহ্মগুপ্ত। ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’-এ তিনি শূন্যকে একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করে শূন্যের সঙ্গে যোগ, বিয়োগ ও গুণের নিয়ম নির্ধারণ করেন। ফলে শূন্য আর নিছক কোনো খালি স্থান বা অনুপস্থিতির চিহ্ন রইল না; গণিতের নিয়মতান্ত্রিক জগতে সে পেল স্বতন্ত্র মর্যাদা। শূন্যের ইতিহাসে এ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ভারতীয় গণিতের এই অভিনব পদ্ধতি পরবর্তীকালে ভারতের সীমানা পেরিয়ে আরব জগতে পৌঁছে যায়। অষ্টম-নবম শতকে আল-খাওয়ারিজমি ভারতীয় গণিত ও সংখ্যাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভারতীয় সংখ্যাপদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। ব্রহ্মগুপ্তের ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত-এর আরবি অনুবাদ এবং ভারতীয় দশমিক স্থানমান পদ্ধতির প্রচারের মধ্য দিয়ে ভারতীয় গণিতের জ্ঞান আরব পণ্ডিতদের কাছে পৌঁছায়। আরবি জগতে বিকশিত হয়ে এই ভারতীয় সংখ্যাপদ্ধতি পরে ইউরোপে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রচলিত হয়ে ওঠে।
এখানেই ‘শূন্যের ইতিকথা’-র বিষয়টি কেবল একটি সংখ্যার আবিষ্কারের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে জ্ঞান কীভাবে এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতায় ভ্রমণ করে তার ইতিহাস। ভারতীয় গণিতবিদদের চিন্তা আরব পণ্ডিতদের মাধ্যমে বৃহত্তর জ্ঞানজগতে ছড়িয়ে পড়ে; পরবর্তীকালে ইউরোপীয় গণিতেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। আজ আমরা যে ০, ১, ২, ৩... সংখ্যাপদ্ধতি ব্যবহার করি, তার পেছনে তাই বহু শতাব্দীর জ্ঞান-বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে।
বইটির বিশেষ আকর্ষণ হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি গাণিতিক ইতিহাসকে লেখক শিশু-কিশোরদের কাছে কঠিন তত্ত্বের বোঝা না বানিয়ে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। শূন্য কেন প্রয়োজন হলো, কীভাবে তার ধারণার বিকাশ ঘটল, ভারতীয় গণিতবিদদের অবদান কী এবং কীভাবে সেই জ্ঞান আরব ও পরবর্তীকালে ইউরোপীয় জগতে পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই পাঠক গণিতের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাসের মুখোমুখি হয়।
‘শূন্যের ইতিকথা’ তাই শুধু গণিতের বই নয়; এটি আবিষ্কার, জ্ঞানচর্চা ও সভ্যতার পারস্পরিক যোগাযোগের গল্প। শূন্যের দিকে নতুন চোখে তাকাতে শেখানোর পাশাপাশি বইটি ভারতীয় গণিতের ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কেও কৌতূহল তৈরি করে। শিশু-কিশোরদের গণিতভীতি দূর করে গণিতের ইতিহাস ও আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বইটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান একটি প্রয়াস।
শূন্যের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি জড়িয়ে আছে ভারতীয় গণিতের সঙ্গে। প্রাচীন ভারতে শূন্যের ধারণা ও স্থানমান পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছিল। ভারতীয় গণিতবিদ আর্যভট্ট পঞ্চম শতকে তাঁর গণিতচর্চার মাধ্যমে স্থানমানভিত্তিক সংখ্যাপদ্ধতির ধারণাকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর রচনায় শূন্যের জন্য আলাদা প্রতীক ব্যবহারের সুস্পষ্ট নিদর্শন না থাকলেও শূন্যস্থান বা স্থানমানের ধারণাটি ভারতীয় গণিতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে এই ধারণাই আরও সুসংহত রূপ পায়।
সেই ধারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ব্রহ্মগুপ্ত। ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’-এ তিনি শূন্যকে একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করে শূন্যের সঙ্গে যোগ, বিয়োগ ও গুণের নিয়ম নির্ধারণ করেন। ফলে শূন্য আর নিছক কোনো খালি স্থান বা অনুপস্থিতির চিহ্ন রইল না; গণিতের নিয়মতান্ত্রিক জগতে সে পেল স্বতন্ত্র মর্যাদা। শূন্যের ইতিহাসে এ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ভারতীয় গণিতের এই অভিনব পদ্ধতি পরবর্তীকালে ভারতের সীমানা পেরিয়ে আরব জগতে পৌঁছে যায়। অষ্টম-নবম শতকে আল-খাওয়ারিজমি ভারতীয় গণিত ও সংখ্যাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভারতীয় সংখ্যাপদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। ব্রহ্মগুপ্তের ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত-এর আরবি অনুবাদ এবং ভারতীয় দশমিক স্থানমান পদ্ধতির প্রচারের মধ্য দিয়ে ভারতীয় গণিতের জ্ঞান আরব পণ্ডিতদের কাছে পৌঁছায়। আরবি জগতে বিকশিত হয়ে এই ভারতীয় সংখ্যাপদ্ধতি পরে ইউরোপে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রচলিত হয়ে ওঠে।
এখানেই ‘শূন্যের ইতিকথা’-র বিষয়টি কেবল একটি সংখ্যার আবিষ্কারের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে জ্ঞান কীভাবে এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতায় ভ্রমণ করে তার ইতিহাস। ভারতীয় গণিতবিদদের চিন্তা আরব পণ্ডিতদের মাধ্যমে বৃহত্তর জ্ঞানজগতে ছড়িয়ে পড়ে; পরবর্তীকালে ইউরোপীয় গণিতেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। আজ আমরা যে ০, ১, ২, ৩... সংখ্যাপদ্ধতি ব্যবহার করি, তার পেছনে তাই বহু শতাব্দীর জ্ঞান-বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে।
বইটির বিশেষ আকর্ষণ হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি গাণিতিক ইতিহাসকে লেখক শিশু-কিশোরদের কাছে কঠিন তত্ত্বের বোঝা না বানিয়ে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। শূন্য কেন প্রয়োজন হলো, কীভাবে তার ধারণার বিকাশ ঘটল, ভারতীয় গণিতবিদদের অবদান কী এবং কীভাবে সেই জ্ঞান আরব ও পরবর্তীকালে ইউরোপীয় জগতে পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই পাঠক গণিতের এক রোমাঞ্চকর ইতিহাসের মুখোমুখি হয়।
‘শূন্যের ইতিকথা’ তাই শুধু গণিতের বই নয়; এটি আবিষ্কার, জ্ঞানচর্চা ও সভ্যতার পারস্পরিক যোগাযোগের গল্প। শূন্যের দিকে নতুন চোখে তাকাতে শেখানোর পাশাপাশি বইটি ভারতীয় গণিতের ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কেও কৌতূহল তৈরি করে। শিশু-কিশোরদের গণিতভীতি দূর করে গণিতের ইতিহাস ও আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বইটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান একটি প্রয়াস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।