বাঙ্গালা শব্দকোষ
যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি
----------
বাংলা ভাষার অভিধানচর্চার ইতিহাসে যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির ‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র সংযোজন। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২০–২২ বঙ্গাব্দে (১৯১৩–১৪ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ডে খণ্ডে। পরবর্তীকালে গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশিতও হয়েছে।
‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’-এর গুরুত্ব শুধু বাংলা শব্দের অর্থ জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে বাংলা ভাষায় প্রচলিত ও অপ্রচলিত শব্দের পাশাপাশি বহু প্রাচীন শব্দ, সংস্কৃত শব্দের পরিবর্তিত বাংলা অর্থ, আরবি-ফারসি উৎসের শব্দ এবং আঞ্চলিক শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শব্দের অর্থের সঙ্গে তার বুৎপত্তি, সমার্থক শব্দ ও ব্যবহার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকায় এটি সাধারণ অভিধানের তুলনায় গবেষণামূলক চরিত্র লাভ করেছে। পুরনো বাংলা সাহিত্য পাঠের সময় আজকের পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠা বহু শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানে এই গ্রন্থ বিশেষ সহায়ক।
গ্রন্থটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, বাংলা ভাষার আঞ্চলিক উচ্চারণ ও শব্দরূপ সংরক্ষণের চেষ্টা। এমনকি বিভিন্ন উচ্চারণের সূক্ষ্ম পার্থক্য প্রকাশের জন্য নতুন হরফ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল। ফলে ‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’ একই সঙ্গে একটি অভিধান এবং বাংলা ভাষার অতীত রূপ ও শব্দভাণ্ডারের মূল্যবান দলিল।
এর রচয়িতা যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি (১৮৫৯–১৯৫৬) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পণ্ডিত। তাঁর জন্ম ২০ অক্টোবর ১৮৫৯, হুগলি জেলার দিগড়া গ্রামে; পিতার কর্মসূত্রে তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কাটে বাঁকুড়ায়। তিনি হুগলি কলেজ থেকে ১৮৮২ সালে বি.এ. এবং ১৮৮৩ সালে উদ্ভিদবিদ্যায় এম.এ. লাভ করেন। এরপর অধ্যাপনা পেশায় যোগ দিয়ে দীর্ঘকাল শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাংলা ভাষা, বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলা ভাষা’, ‘সিদ্ধান্তদর্শন’, ‘আমাদের জ্যোতিষী ও জ্যোতিষ’, ‘রত্নপরীক্ষা’, ‘পূজাপার্বণ’ এবং ‘Ancient Indian Life’। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্য, সহসভাপতি এবং সভাপতি ছিলেন। পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯১০ সালে তিনি ‘বিদ্যানিধি’ উপাধি লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের ৩০ জুলাই বাঁকুড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’ তাই শুধু একটি পুরনো অভিধান নয়; এটি বাংলা ভাষার শব্দসম্পদ, বিবর্তন ও ঐতিহাসিক ব্যবহারকে ধরে রাখা এক মূল্যবান ভাষাতাত্ত্বিক দলিল। পুরনো বাংলা শব্দের অর্থ, বুৎপত্তি ও সমার্থক শব্দ অনুসন্ধান করতে চান এমন সাহিত্যপাঠক, গবেষক, লেখক ও ভাষাপ্রেমীদের জন্য বইটি আজও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’-এর গুরুত্ব শুধু বাংলা শব্দের অর্থ জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে বাংলা ভাষায় প্রচলিত ও অপ্রচলিত শব্দের পাশাপাশি বহু প্রাচীন শব্দ, সংস্কৃত শব্দের পরিবর্তিত বাংলা অর্থ, আরবি-ফারসি উৎসের শব্দ এবং আঞ্চলিক শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শব্দের অর্থের সঙ্গে তার বুৎপত্তি, সমার্থক শব্দ ও ব্যবহার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকায় এটি সাধারণ অভিধানের তুলনায় গবেষণামূলক চরিত্র লাভ করেছে। পুরনো বাংলা সাহিত্য পাঠের সময় আজকের পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠা বহু শব্দের অর্থ ও উৎস অনুসন্ধানে এই গ্রন্থ বিশেষ সহায়ক।
গ্রন্থটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, বাংলা ভাষার আঞ্চলিক উচ্চারণ ও শব্দরূপ সংরক্ষণের চেষ্টা। এমনকি বিভিন্ন উচ্চারণের সূক্ষ্ম পার্থক্য প্রকাশের জন্য নতুন হরফ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়েছিল। ফলে ‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’ একই সঙ্গে একটি অভিধান এবং বাংলা ভাষার অতীত রূপ ও শব্দভাণ্ডারের মূল্যবান দলিল।
এর রচয়িতা যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি (১৮৫৯–১৯৫৬) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পণ্ডিত। তাঁর জন্ম ২০ অক্টোবর ১৮৫৯, হুগলি জেলার দিগড়া গ্রামে; পিতার কর্মসূত্রে তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কাটে বাঁকুড়ায়। তিনি হুগলি কলেজ থেকে ১৮৮২ সালে বি.এ. এবং ১৮৮৩ সালে উদ্ভিদবিদ্যায় এম.এ. লাভ করেন। এরপর অধ্যাপনা পেশায় যোগ দিয়ে দীর্ঘকাল শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাংলা ভাষা, বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলা ভাষা’, ‘সিদ্ধান্তদর্শন’, ‘আমাদের জ্যোতিষী ও জ্যোতিষ’, ‘রত্নপরীক্ষা’, ‘পূজাপার্বণ’ এবং ‘Ancient Indian Life’। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্য, সহসভাপতি এবং সভাপতি ছিলেন। পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯১০ সালে তিনি ‘বিদ্যানিধি’ উপাধি লাভ করেন। ১৯৫৬ সালের ৩০ জুলাই বাঁকুড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
‘বাঙ্গালা শব্দকোষ’ তাই শুধু একটি পুরনো অভিধান নয়; এটি বাংলা ভাষার শব্দসম্পদ, বিবর্তন ও ঐতিহাসিক ব্যবহারকে ধরে রাখা এক মূল্যবান ভাষাতাত্ত্বিক দলিল। পুরনো বাংলা শব্দের অর্থ, বুৎপত্তি ও সমার্থক শব্দ অনুসন্ধান করতে চান এমন সাহিত্যপাঠক, গবেষক, লেখক ও ভাষাপ্রেমীদের জন্য বইটি আজও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
প্রাসঙ্গিক মতামত করুন। অবাঞ্চিত মন্তব্যের যাবতীয় দায় মন্তব্যকারীর। অন্য কেউ নয়।